ইসলামে সাদাকাতুল ফিতর-এর তাৎপর্য অনেক।
সাওম যে বছর ফরজ হয় সে বছরই নবি কারিম (স.) সাদকায়ে ফিতর আদায়ের নির্দেশ দেন। সাদাকাতুল ফিতর-এর দুই ধরনের তাৎপর্য রয়েছে। একটি হলো ধর্মীয় এবং অন্যটি সামাজিক। সাওম পালন করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় বিভিন্ন ভুলভ্রান্তি, ত্রুটিবিচ্যুতি করে ফেলি। এসব ত্রুটিবিচ্যুতিকে শুধরিয়ে দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক আমাদের জন্য সাদাকাতুল ফিতর-এর বিধান রেখেছেন। যেমন হাদিসে বর্ণিত আছে, "রাসুলুল্লাহ (স.) যাকাতুল ফিতর আবশ্যক করেছেন রোযাদারদের অনর্থক কথা ও অশ্লীলতা থেকে পবিত্র করার জন্য ও মিসকিনদের খাদ্যের ব্যবস্থা করার জন্য।" (আবু দাউদ) সাদাকাতুল ফিতর-এর সামাজিক তাৎপর্য হলো, সাদাকাতুল ফিতর দ্বারা গরিব অনাথ লোকেরা অনেক উপকৃত হয়। তারাও ঈদের খুশিতে শরিক হতে পারে। এতে করে সমাজে ধনী-গরিবের ব্যবধান কমে আসে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ বৃদ্ধি পায়। এভাবে সাদাকাতুল ফিতর ধনী-গরিবের মধ্যে সৌহার্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থিতিশীল সমাজ গঠনে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের আশিকুর রহমান রমযানের শেষে গরিব-মিসকিনদের মাঝে সাদাকাতুল ফিতর বিতরণ করেন। তিনি এর গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে একটি হাদিস শোনান। হাদিসটি হলো- "সাদাকাতুল ফিতর দ্বারা সাওম পালনের সকল দোষ দূরীভূত হয়, গরিবের পানাহারের ব্যবস্থা হয়।" পরিশেষে বলা যায়, আশিকুর রহমান কর্তৃক আদায়কৃত সাদাকাতুল ফিতর এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।
Related Question
View Allআল্লাহ প্রদত্ত ও রাসুলুল্লাহ (স.) প্রদর্শিত পন্থায় জীবন পরিচালিত করাই ইবাদত।
'মুসাফির' আরবি শব্দ। এর অর্থ ভ্রমণকারী। কমপক্ষে ৪৮ মাইল দূরবর্তী কোনো স্থানে যাওয়ার নিয়তে কোনো ব্যক্তি বাড়ি থেকে বের হলে শরিয়তের পরিভাষায় তাকে মুসাফির বলে। এমন ব্যক্তি গন্তব্যস্থলে পৌঁছে কমপক্ষে পনের দিন অবস্থানের নিয়ত না করা পর্যন্ত তার জন্য মুসাফিরের হুকুম প্রযোজ্য হবে।
জমির উদ্দিনের মনোভাবে ইসলামের ফরজ ইবাদত পালনে অবহেলা ও উদাসীনতা প্রকাশ পায়।
আমরা জানি, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ন্যায় প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান, স্বাধীন, মুসলিম পুরুষের ওপর জুমার সালাত আদায় করা ফরজ। আর এর অস্বীকারকারী কাফির। অবহেলা করে কেউ এ সালাত আদায় না করলে সে ফাসিক হয়ে যাবে।
জমির উদ্দিন সারাদিন মাঠে কাজ করেন। নামাযের সময় হলে খেতের পাশে কাপড় বিছিয়ে নামায আদায় করেন। জুমার দিনে মসজিদে না গিয়ে যোহর সালাত আদায় করেন। এক্ষেত্রে তিনি কাজের অজুহাত দাঁড় করান। সুতরাং জমির উদ্দিনের কাজকে আমরা ফিসক হিসেবে গণ্য করতে পারি। কারণ তিনি জুমার সালাত অস্বীকার করেননি। বরং কাজের ক্ষতি হবার কথা বলে নামাযে অবহেলা করেছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জহির উদ্দিনের বক্তব্যটি হলো, "জুমার নামায আদায় করার জন্য শরিয়তের কিছু বিধান রয়েছে।" জুমার নামায বিষয়ে জহির উদ্দিনের এ বক্তব্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও যথার্থ।
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ন্যায় প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, বুদ্ধিমান, স্বাধীন, মুসলিম পুরুষের ওপর জুমার সালাত আদায় করা ফরজ। জুমার ওয়াক্তে প্রথমে মসজিদে গিয়ে তাহিয়্যাতুল ওযু ও দুখুলুল মসজিদ দুই দুই রাকাআত করে নফল সালাত আদায় করতে হয়। ফরজের আগে চার রাকাআত কাবল্লাল জুমা ও পরে চার রাকাআত বা'দাল জুমা আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। জুমার সালাতের জন্য দুটি আযান দেওয়া হয়। প্রথম আযান মসজিদের বাইরে মিনারে, দ্বিতীয়টি মসজিদের ভিতরে ইমাম সাহেব খুতবা দিতে মিম্বরে বসলে দেওয়া হয়। জুমার দুই রাকাআত ফরজের পূর্বে ইমাম সাহেব মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে মিম্বরে দাঁড়িয়ে খুতবা দেন। মুসল্লিদের খুতবা শোনা ওয়াজিব। এ সময় কথা বলা, অনর্থক কিছু করা নিষেধ। খুতবা শেষে ইমামের সাথে দুই রাকাআত ফরজ সালাত অন্যান্য ফরজ সালাতের ন্যায় আদায় করতে হয়। জুমার ফরজের জন্য জামাআত শর্ত। জামাআত ছাড়া জুমার সালাত হয় না।
সুতরাং বলা যায়, পাঠ্যবইয়ের আলোকে জহির উদ্দিনের উল্লিখিত বক্তব্য যথার্থ।
যে ব্যক্তি এক বা একাধিক রাকাআত শেষ হওয়ার পর ইমামের সাথে জামাআতে অংশগ্রহণ করে তাকে মাসবুক বলে।
'মুসাফির' আরবি শব্দ। মুসাফিরের আভিধানিক অর্থ ভ্রমণকারী এবং শরিয়তের ভাষায় কমপক্ষে ৪৮ মাইল দূরবর্তী কোনো স্থানে যাওয়ার নিয়তে কোনো ব্যক্তি বাড়ি থেকে বের হলে এবং ১৫ দিনের কম অবস্থান করলে তাকে মুসাফির বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!